পরাজয়ের হাসি

মো. মোছাদ্দিক হোসেন ২৫ নভেম্বর, ২০২৩

এক বড় অংশের মন ভাঙ্গবে আগামীকাল। আসলে মনটা কেনো ভাঙ্গে? মা-বাবা, সমাজের অভ্যন্তরীণ চাপ আর অসুস্থ প্রতিযোগিতার ফাঁদ এই ক'টি বিষয় ছাড়া আর কি কোনো কারণ আছে মন ভাঙ্গার?

একটু ভিন্ন আঙ্গিকে যদি চিন্তা করি, দেড় থেকে দু'টা বছর পর্যাপ্ত কষ্ট, মেহনত করার পরও কি এই মন ভাঙ্গা? নাকি অনেকটা বিনা কষ্টে প্রাপ্ত বাম্পার ফলন না পাওয়ার জন্য মন ভাঙ্গা? যদি ২য় টি হয় তাহলে আপনি আপনার প্রাপ্য ফল পেয়ে গিয়েছেন। যদি ১ম টি হয় তাহলে এই মন ভাঙ্গা যেন সুসংবাদ, স্বর্ণালী মুহূর্ত!

হয়তো এই এক মন ভাঙ্গাই পারে এই দু'বছরের একঘেয়ে, অনিশ্চিত পথচলার মোড়কে সঠিক পথ দেখাতে। হয়তো এই এক মন ভাঙ্গাই পারে পরবর্তী আসল পরীক্ষাগুলোয় সফল করাতে। হয়তো এই এক মন ভাঙ্গাই পারে অসাবধানতার পূর্ব শিক্ষা দিতে। হয়তো এই এক মন ভাঙ্গাই হাজার মন ভাঙ্গা থেকে বাচার কারণ হবে!

তাহলে, কেনো এই মন ভাঙ্গায় নিজেকে শেষ করা? কেনো নিজেকে সবার থেকে আড়াল করে পরবর্তী প্রতিশোধের তামান্নায় নিজেকে সংশোধনে বিভোর না রাখা? কেনো দুদিন পর এই একই সমাজ, বন্ধু যারা সফল হলে আবার বলবে, “এটা তো সহজ পরীক্ষা ছিল। দেখি জীবনের পরের পরীক্ষায় কি করো!” তাদের নিয়ে মনঃক্ষুণ্ণতা? কেনো নিজের গহীনের সুপ্ত হিরাগুলোকে ধার না দিয়ে ভোঁতা করে রাখা? আর কতবার ব্যর্থ হলে জ্বলবে ভিতরকার সেই প্রতিশোধ স্প্রীহা? আর কতবার?

অনলাইন বাজারের সব সস্তা মোটিভেশনের ভীরে নিজেদের প্রকৃত হীরাগুলো যে এভাবে হারিয়ে ফেলছি তা আর কবে টের পাব আমরা? আর কবে?

إِلَّا تَنصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ ٱللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ثَانِىَ ٱثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِى ٱلْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَـٰحِبِهِۦ لَا تَحْزَنْ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَنَا ۖ فَأَنزَلَ ٱللَّهُ سَكِينَتَهُۥ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُۥ بِجُنُودٍۢ لَّمْ تَرَوْهَا وَجَعَلَ كَلِمَةَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ٱلسُّفْلَىٰ ۗ وَكَلِمَةُ ٱللَّهِ هِىَ ٱلْعُلْيَا ۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ٤٠

যদি তোমরা তাকে সাহায্য না কর, তবে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছেন যখন কাফিররা তাকে বের করে দিল, সে ছিল দু’জনের দ্বিতীয়জন। যখন তারা উভয়ে পাহাড়ের একটি গুহায় অবস্থান করছিল, সে তার সঙ্গীকে বলল,
‘তুমি পেরেশান হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন’

অতঃপর আল্লাহ তার উপর তাঁর পক্ষ থেকে প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাকে এমন এক সৈন্য বাহিনী দ্বারা সাহায্য করলেন যাদেরকে তোমরা দেখনি এবং তিনি কাফিরদের বাণী অতি নিচু করে দিলেন। আর আল্লাহর বাণীই সুউচ্চ। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান।

সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ৪০

শুভ রাত্রি 🍂